শুভ দিন। সবাই ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আজকে অনেকদিন পরে আপনাদের জন্য লিখা শুরু করলাম। কি লিখবো কি লিখবো ভাবছিলাম। তখন ভাবলাম একটা  অনুগল্প লিখি ।

আমি প্রথমে কিছু আউল ফাউল কথা লিখে পরে আস্তে আস্তে করে আজকের টপিকে যাবো। আমি লিখাবার সময়ে এই গানটি শুনছিলাম, কি শুনবেন নাকি আমার মতন করে?

যে কোন কাজে আপনি কিভাবে সফলতা পাবেন। তা আমার মতে তিনটি স্টেপ রয়েছে ।

  • স্টেপ একঃ মুখে স্বীকৃতি দেয়া। 
  • স্টেপ দুইঃ অন্তরে বিশ্বাস করা।
  • স্টেপ তিনঃ কাজে পরিনত করা।

আসুন এই তিন স্টেপ নিয়ে আর একটি সবিস্তারে আলোচনা করি।

মুখে স্বীকৃতি দেয়া

প্রথমেই আপনি যেই কাজ করতে চান তা আপনাকে নিজেই নিজের মুখ দ্বারা স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। যেমন আমি চাই অ্যাফিলিয়েটে সফল হতে সেই বিষয়টি মুখে স্বীকার করে নেয়া। আপনি যখন কোন কিছু মুখে স্বীকার করেন তখন আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, আপনার নিজের শরীর মন সব তার জন্য সতর্ক হয়ে যায়।

আপনার আসে পাশের লোকজন আপনার দিকে ভুরূ কুঁচকে তাকায়। তারাও আপনার এই কাজকে যে স্বীকৃতি দিলেন তার ব্যাপারে শেষ দেখতে চায়? যদি ও কেউ সেটা আপনাকে মুখ ফুটে বলবে না কিন্তু তাদের চাহুনি কিন্তু বুঝায় তাদের আপনার এই কাজের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে তা হতে পারে পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ। তারা আপনার এই ব্যাপারের সাক্ষী ও কাজের উৎসাহিত করবে, কেউ সফলতার দিকে কিংবা কেউ ব্যর্থতার দিকে। তাই আমাদের কাজের স্বীকৃতি মুখে মুখে দেয়া খুবই ইম্পরট্যান্ট।

এই ব্যাপারে একটি মজার গল্প শেয়ার করছি আপনাদের সাথে ভাল লাগবে আমি নিশ্চিত। এক লোকের একটি ছাগল ছিল। সেই ছাগলের প্রচুর গোসল বিদ্বেষ ছিল। একদিন মালিক সেই ছাগলটিকে কোলে নিয়ে পুকুরের কাছে নিয়ে গেল। তারপর সে ছাগলটিকে ছুড়ে দিল পুকুরে। যারফলে ছাগল টি গোছল হয়ে গেল। ছাগলটি উপরদিকে উঠে এসে মালিক কে বলল তুমি যাই করনা কেন এই গোসলে আমি রাজি ছিলাম না। দেখুন সে কাজটি করছে বাধ্য হয়ে ও জানে যে কাজটি যেকোন ভাবে সম্পাদন হয়ে গিয়েছে কিন্তু তার স্বীকৃতি না দেয়ার ফলে এটি সফল কাজে পরিগনিত হয়নি।

অন্তরে বিশ্বাস করা

 আপনি মুখে স্বীকৃতি দিলেন কিন্তু অন্তর বা হৃদয়ে বিশ্বাস করলেন না। তাহলে কি হবে আপনি আপনার মুখে দেয়া স্বীকৃতি কাজে পরিনত করতে পারবেন না সঠিকভাবে। কাজে পরিনত করবেন তবে তাতে সফলতা পাবার সম্ভাবনা খুবই স্বল্প পরিমানে থাকবে। যখন দেখবেন আপনি যেই কাজ হৃদয় দিয়ে করেন তাতে সফল হন। তেমন করে স্বীকার করে যদি আপনি হৃদয়ে ধারন করেন তাহলে আপনার কাজে সফলতার বারবে। কারন আমরা সকলেই আমরা আমাদের মন বা হৃদয় দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকি।

আমরা ছোটো বেলা থেকে একটি গল্প শুনে বড় হয়েছি যে, এক কৃষকের ছেলে ছিল চরম লেভেলের ফাকিবাজ কোন কাজবাজ করতো না. খালি খেত আর ঘুরে বেড়াতো। একদিন তার বাবা তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে জমি চাষ করতে বলল। সে চাষ করছে তার মা খাবার নিয়ে এসে দেখে কোন মতে চাষ সে দিয়েছে, তখন সে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলো যে বাবা এটা কামন ধরনের চাষ। তখন ছেলে বলল যে বাবা হাল চাষ করতে বলেছে তাই আমি চাষ করেছি। 

এইখানে সে স্বীকার করেছিল কাজ করবে ও সেই কাজ করেছিল কিন্তু তাতে তার অন্তর বা মনের বিশ্বাস ছিল না তাই তার ঐ কাজ সফল হিসাবে পরিগনিত হয়নি।

সফল হবার স্টেপ
সফল হবার স্টেপ

কাজে পরিনত করা

ধরে নিলাম আপনি উপরের দুইটি স্টেপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তাতেও আপনি সফল হবেন কি, উত্তর না? কারন আপনার সফলতার ট্র্যাকে আপনি ৭৫% কাজ শেষ করেছেন, এখন শুধু কাজে পরিনিত করলেই আপনি সফল।

কিভাবে একটি জিনিষকে আপনি কাজে পরিনত করবেন। খুব সহজ আপনি নিজে কে নিজে প্রশ্ন করুন কেন এই কাজে আপনি সফল হতে চান? কতদিনের মাঝে এই কাজের সফলতা চান? কিভাবে  করলে আপনি সফল হবেন?

দেখবেন এই সব উত্তর আপনাকে আপনার কাজের রোডম্যাপ  ধরে আগাতে সহযোগিতা করবে।  

পড়ে দেখতে পারেন সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব

এক অলস লোক( আমি) শুক্রবার  বিছানায় শুয়ে  রয়েছি। কিছুক্ষণ পর আমি নিজেকে খুবই ক্ষুধার্ত মনে হল। আমি বলছি মুখে আমার খুব ক্ষুধা লাগছে। কিন্তু বিছনা থেকে না উঠার কারনে কপালে খাবার জুটল না। না খতে পারার কারনে আমার ক্ষুধা রয়ে গেল।

এইখানে আমি মুখে স্বীকার করেছি, হৃদয় দিয়ে তা অনুধাবন করেছি কিন্তু কাজে পরিনত করি নাই। তাই আমি সফলতার বন্দরে অবগাহন করতে পারলাম না।

আশা করেছি উপরের তিনটি সফলতার স্টেপ আপনি ফলো করে সফলতা নামক সোনার কাঠির ছোঁয়া পাবেন।

আমরা সব কিছুতে সফলতা চাই, সঠিক স্টেপ না জানার কারনে আমরা সফলতা পাই না। পরে আমরা দোষ দেই কপালের বা আমাদের আশেপাশের কোন প্রিয় মানুষের।

আপনার মনে যা আছে সফলতা ব্যাপারে তা আমাকে কমেন্ট করে জানান। আজকে লিখা শেষ করছি সামনে আবার দেখা হবে নতুন কোন লিখা নিয়ে। আর মনে বিশ্বাস রাখুন “ আমার জন্মই সফলতার গল্প জন্ম দিবার জন্য”।

Comments

comments